নির্বাচনী ইশতেহারে যৌন সংখ্যালঘুদের জায়গা হবে কি?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই খুব শীঘ্রই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে রাজনৈতিক দলগুলো। এই ইশতেহারে জনগণের উদ্দেশ্যে নানা প্রতিশ্রুতি দেন রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও নির্বাচনে জয় লাভ করার পরে এই সব ইশতেহার তারা বেমালুম ভুলে যান। তবুও এই ইশতেহার জনগণের জন্য কিছুটা প্রাপ্তিই বলা চলে। কিন্তু এই সামান্য প্রাপ্তিটুকুও জুটে নি বাঙালী যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য। মৌলবাদীদের ভয়ে কিংবা নিজেদের সংকীর্ণ চিন্তাধারার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলই যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আগত নির্বাচনী ইশতেহার উপলক্ষে যৌন সংখ্যালঘুদের নিয়ে কোন রকম প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো ধর্মবাদী দলগুলো ক্ষমতায় আসলে যৌন সংখ্যালঘুদের উপরে

বিস্তারিত পড়ুন

পুরুষ হয়ে উঠতে পারি নি বলে

বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে শিশু জন্ম নেয়া এক দারুণ ব্যপার বটে। কারণ সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে। হ্যা, জানার আগ্রহটা দোষনীয় নয়। তবে গর্ভবতী মহিলার শাশুড়ির একটা আবেদন থাকে ছেলের বৌ এর প্রতি যেন বাচ্চাটা ছেলেই হয়। বাচ্চাটা ছেলে হলে আনন্দ করে আযান দেয়া হয়,পুরো মহল্লায় চলে মিষ্টি বিতরণ। কিন্তু মেয়ে বাচ্চা হলে  মুখ হয়ে ওঠে আষাঢ়ের কালো মেঘ। বাড়ির মুরুব্বিদের মুখে শোনা যায় কষ্টের অনুভূতি জড়িত কথা, ” জন্ম মৃত্য আল্লাহ্ পাকের হাতে, তার ইচ্ছা তো মেনে নিতেই হবে”। অনেক পরিবারে তো স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয় শুধু মাত্র মেয়ে শিশু জন্ম দেয়ার কারণে। আজকাল শহরে হয়ত এটা কমেছে কিন্তু গ্রামে কিন্তু কমার বদলে বেড়েছে। সন্তান জন্মানোর পর সমাজ তাদের আচরণ নির্ধারণ করে দিতে আসে। পুরুষকে হতে হবে বীর আর মেয়েদের হতে হবে লজ্জাবতী। পুরুষ যা ইচ্চা করে বেড়াবে আর মেয়েকে হতে হবে

বিস্তারিত পড়ুন

কত কাল ধরে চলবে এসব নির্যাতন?

বাংলাদেশে ৩৭৭ ধরা আইনে বিসমকামী যৌনতা ছাড়া সব যৌনতা আপরাধ। এই আইন অনুযায়ী কেউ সমকামিতা করলে অপরাধী হিসেবে চিহ্নত হয়ে কারাদন্ডে দন্ডিত হবে। শাস্তির ভয়ে বাংলাদেশের সমকামীরা প্রকাশ্যে আসে না। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বারংবার সমকামীদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে সমকামীদের সংখ্যা নেহাতই কম না। জুলহাজ মান্নান ও মহবুব তনয় নামের দুজন সমকামী অধিকার কর্মীর হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে সমকামিতা ইস্যুটি বাংলাদেশের মডিয়ায় চলে আসে। এই হত্যাকান্ডের পর আর কোন হত্যাকান্ড না ঘটলেও সমাজে সমকামীদের নির্যাতন বন্ধ হয় নি। শত শত নির্যাতনের মধ্যে দুই একটি নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হয়। এ রকম কিছু নির্যাতনের ঘটনা আমরা আজ তুলে ধরবঃ- ১. পারিবারিক নির্যাতনঃ একজন সমকামী ব্যক্তির যৌন প্রবৃত্তির কথা প্রকাশ হওয়ার পরপরই প্রথম নির্যাতনের শিকার হতে হয় পরিবার থেকে। ২০১৭ সা

বিস্তারিত পড়ুন

“উভলিঙ্গ মানব” কিছু কথা ও কিছু দাবি

পুরুষ এবং নারী এই দুই লিঙ্গের বাইরেও আরও লিঙ্গ আছে। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। জানবই বা কেমন করে? কেননা নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষদের আমরা কখনই স্বাভাবিক চোখে দেখি নি। এর কারণ ধর্ম এবং সংকীর্ণ চিন্তাধারার সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে এসেছে। আমাদেরকে শেখানো হয়েছে নারী এবং পুরুষের বাইরে কোন লিঙ্গ হতে পারে না। নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে আমরা সব সময় অস্বীকার করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে দামিয়ে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয় নি। এ রকমই একটি লিঙ্গ বৈচিত্র্য হচ্ছে উভলিঙ্গ। উভলিঙ্গ হচ্ছে একই সঙ্গে দুই লিঙ্গেরই সহাবস্থান। বাংলাদেশে উভলিঙ্গ মানবদের হিজরা বলে সম্মোধন করা হয়। উভলিঙ্গত্ব প্রকৃতিতে একেবারে বিরল কিছু নয়। আফ্রিকার নিশাচর স্ত্রী হায়েনাদের মধ্যে এ রকম উভলিঙ্গ দেখা যায় । বুশ বেবী, স্পাইডাই মাম্কি, উলি মা

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – দ্বিতীয় খন্ড

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ গণহত্যাঃ ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সে

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – প্রথম খন্ড

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থ্যাৎ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম উত্থানের সময় থেকেই সমকামীদের প্রতি খড়গহস্ত। যুগে যুগে সমকামীরা ধর্মের নিরিহ শিকারে পরিণত হয়ে উঠেছিল। ধর্ম কর্তৃক নানা নির্যাতন মুখে বুজে সহ্য করতে হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠিকে। কিন্তু গত শতাব্দি থেকে যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানবাধীকার নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হতে থাকে। বৈজ্ঞানীক গবেষণাগুলোর মাধ্যমে সমকামী জনগোষ্ঠির প্রতি প্রচলিত কুসংস্কার গুলো দূর হতে শুরু করেছে। যার ফলে সভ্য সমাজগুলো আজ সমকামী ব্যক্তিদের মাানবাধীকার রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে উঠেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইহুদী,খৃষ্টান এবং বর্তমানে হিন্দু ধর্ম কিছুটা নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে শুরু করলেও ইসলাম ধর্ম হিংস্রতার দিকে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। খৃষ্টান, ইহুদী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হলে বিপরীত

বিস্তারিত পড়ুন

Dead sea, a horrible myth

'ডেড সি! এক ভয়ঙ্কর মিথ' ডেড সি ( মৃত্য সাগর বা লূত সাগর) ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্মে একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। ডেড সি বা লূত সাগর নিয়ে ধর্ম গ্রন্থগুলোতে রয়েছে নানা কল্প কাহিনী। বিভিন্ন নদী, বিভিন্ন স্থান ও নানা জিনিস নিয়ে এরকম কল্পকাহিনী প্রচলিত থাকে। এগুলোকে আমরা মিথ বলি। অনেকেই তাদের আশে-পাশের নানা জিনিস নিয়ে এরকম প্রচলিত মিথ শুনে থাকতে পারেন। কেউ হয়ত এসব মিথ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আবার কেউ যুক্তি প্রমাণ না থাকায় এসব বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ওসব ছোট ছোট মিথে বিশ্বাস অবিশ্বাস হয়ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু ডেড সি বা লূত সাগর এমন একটি মিথ যা যুগের পর যুগ ধরে সমাজে গভীব প্রভাব ফেলতে পেরেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত প্রায় সবাই ডেড সি বলতে এক ভয়ঙ্কর ভূতুরে স্থান হিসেবে কল্পনা করতেই ভালবাসে। বিশেষ করে সমকামিতার প্রসঙ্গ উঠলে এই লূত সাগরের প্রসঙ

বিস্তারিত পড়ুন

যুগে যুগে যৌন সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মীয় নির্যাতনের ইতিহাস

ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল মানব মনের অজানা ভয় থেকে। মানব জাতীর উদ্ভবের পর অজানা অচেনা এই প্রকৃতির নানা বিপর্যয় মানব মনে একটা অলৈকিক ভয় সৃষ্টি করে। তাই এই সব বিপর্যয় ও প্রকৃতির নানা জিনিসের শক্তি দেখে তা থেকে বাঁচার জন্য এবং প্রকৃতিকে শান্ত রাখার চেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন বস্তুর আরাধনা শুরু হয়। কখনও সূর্যের, চন্দ্রের, নদীর, বড় গাছপালার, বাতাসের, পাহাড়ের, বড় পশু-পাখিসহ না জিনিসের পূজো আর্চনা করত এই ভেবে যে এগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যা আজও কিছুটা হলেও মানব সমাজে দেখা যায়। আজকে বৃহৎ পরিসরে ধর্মকে দেখা গেলেও সেই প্রাচীন সময়ে ধর্ম বা বিশ্বাসগুলো ছোট ছোট গোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আস্তে আস্তে যখন মানুষ সঙ্গবদ্ধ হতে শুরু করল তখন ধর্মের প্রসারও একটু বাড়তে থাকলে। আজকের ধর্ম আর সেই সময়ের ধর্মের মধ্যে ছিল বিশাল ফারাক। তখন ধর্ম সামান্য কিছু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ক

বিস্তারিত পড়ুন

একটু ভেবে দেখবেন কি?

আপনাদের কাছে ভিন্নতা মানেই নিকৃষ্ট, অসামাজিক, বেলেল্লাপনা, অপ্রাকৃতিক, অপরাধ, পাপ আরও কত কি। অর্থ্যাৎ আপনার বিশ্বাস,আচার-আচারণ, চলা-ফেরা,পোশাক,খাদ্যাভ্যাস কিংবা লাইফ স্টাইল অন্য কোন ব্যক্তির সাথে মিল না হলে তবে তাকে এই ট্যাগগুলো না দিয়ে আপনারা কখনও শান্তি পান না। আপনাদের সব চেয়ে বড় মূর্খতা হচ্ছে এটাই যে আপনারা মনে করেন আপনাদের বিশ্বাস এবং পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে অপরকে চলতে হবে। কিন্তু অপর একজন ব্যক্তি কেন আপনার বিশ্বাস এবং পছন্দ অপছন্দ ভিত্তিতে চলাফেরা করতে যাবে? একজন ব্যক্তি যদি তার মতো চলাফেরা করে সুখী হয় এবং তাতে আপনাদের কোন ক্ষতি না হয় তাহলে সেই ব্যক্তির জীবনে হস্তক্ষেপ করার যৌক্তিকতা ঠিক কতটুকু? একবার ভেবে দেখুন তো। সেই ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে বাধ্য না করে নিজের চিন্তাধারাগুলোরও তো পরিবর্তন করতে পারেন। ঠিক আপনাদের মতো কিছু সংকীর্ণ চিন্তাধারার ব্যক্তিদের ঘৃণা ও হিংস্রতার নির্মম শিকা

বিস্তারিত পড়ুন

Pain, pansexuality and afrofuturism: three films about the body

Diving into body politics, we highlight three films from the BFI London Film Festival’s Experimenta programme. Slumberparty 2018 In 1984, The Positive Pornographers, a mostly queer collective based in Toronto, made a film. Before intersectional feminism became theoretical jargon, the collective embodied its meaning with a full-blown liberation of pansexual choreography. Appropriately, they called their film Slumberparty. In 2018, real-life partners and artists Hazel Meyer and Cait McKinney, driven by their research into how queer porn is archived, explored ways of ethically restoring Slumberparty – which was once thought lost and only found again in 2016. The pair’s contemporary version of this non-binary piece retells a historical landmark of Toronto’s queer porn scene – direct

বিস্তারিত পড়ুন