অপরাধ, স্বাধীনতা এবং সমকামিতা

আমাদের সমাজে সমকামীদের অস্তিত্ব নতুন কিছু নয়। হ্যা, এটা ঠিক যে বিশাল একটা সময় ধরে সমকামীদের আত্মগোপন করে রাখতে হয়েছে নিজেদের যৌন প্রবৃত্তিকে। কেউ কোনভাবে প্রকাশিত হয়ে গেলে পেতে হয়েছে নির্মম শাস্তি। আমাদের পরিচিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিকেই শাস্তি পেতে হয়েছে নিজের যৌন প্রবৃত্তির কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে সমকামীদের শুনতে হয়েছে নানা বাজে তকমা। এখন আস্তে আস্তে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হচ্ছে। ফলে সমস্ত যৌন সংখ্যালঘু মানুষরা তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে। এই জানান দিতে গিয়ে সেকেলে চিন্তাধার কিছু বিরুদ্ধবাদীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজকাল সমকামিতা নিয়ে যারা সামন্যতম পড়াশুনা করেছেন তাদের মুখে সমকামীরা বিকৃত মস্তিস্কের, আধুনিকতার তৈরী, প্রকৃতি বিরুদ্ধ, প্রাণী জগতে সমকামিতা নেই, এ’রকম মন্তব্যগুলো আর তেমন শোনা যায় না। কারণ সমকামীরা যে সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক এ নিয়ে অনেক গবেষণার প্রতিবেদন বের হ

বিস্তারিত পড়ুন

সমকামিতা নাকি সমকামী বিদ্বেষীতা রোগ?

আমি আমিষ খাই না। এটা কোন সমস্যা নয়। কিন্তু যারা আমিষ খায় তাদের ব্যপারে যদি বলি “ছিঃ ছিঃ এরা প্রাণি হয়ে প্রাণির মাংস ভক্ষণ করছে, এদের হত্যা করা উচিৎ” এবং চাপাতি নিয়ে হত্যা করার জন্য তেড়ে আসি। তখনই সেটা সমস্যা হয়ে দাড়ায়। শুধু সমস্যাই নয় তখন হয়ত আপনারা রোগী হিসেবে আমাকে মানসিক ডাক্টারের কাছে পাঠাবেন। হ্যা, সমাজের মঙ্গলের জন্য পাঠানোও উচিৎ। নিজেদের অজান্তে এ রকম রোগী কিন্তু আপনাদের অনেকেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছি। যৌনতার দিক থেকে আপনি বিসমকামী। বিসমকামী হওয়ার কারণে সমলিঙ্গের কারও সাথে ভালবাসা এবং প্রণয়ের কথা চিন্তাও করতে পারেন না। সমকামিতার কথা ভাবলেই আপনার অরুচি লাগে। হ্যা, লাগাটাই স্বাভাবিক এবং অন্যায় কিছু না। কিন্তু নিরামিষভোজী হওয়ার কারণে আমিষভোজীদের হত্যা করতে যাওয়া আমার যেমন অন্যায় তেমনি বিসমকামী হওয়ার কারণে সমকামীদের হত্যা এবং ঘৃণা ছড়ানো আপনারও অ

বিস্তারিত পড়ুন

” আমরা কি রূপে প্রকৃতির বিরুদ্ধে আছি ব্যাখ্যা দেবেন প্লিজ?”

সৃষ্টির শুরু থেকে সমকামীরা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। বিষমকামী মানুষ দ্বারা সন্তান উৎপাদন সম্ভব কথা সত্যি, তাই বলে সন্তান উৎপাদন ই যে যৌন মিলন এর একমাত্র কারণ এ কথা কে বলেছে? উষ্ণতা থেকে ও হয় যৌন মিলন। ভালোবাসা প্রকাশের একমাত্র উপায় কি শুধু যৌনতা? কখনোই না। তাছাড়া ব্যক্তি বিশেষে যৌন মিলন এর আচরণ, রুচি এবং কে কিভাবে সন্তুষ্টি লাভ করেন তাতেও অনেক পার্থক্য রয়েছে, এর কারণ, মানুষ মাত্রই বিচিত্র প্রাণী । আপনি, আপনার আসে পাশে, বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের হার দেখে তা আরো স্পষ্ট বুঝে নিতে পারেন। আমি নিশ্চিত, বিষমকামী দের বেলায় এই সত্য মেনে নিতে আপনার কোনো দ্বিধা নেই, তবে সমপ্রেমী দের বেলায় কেন না? আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন 'আপনারা কেন সমকামী?' পুরুষ fetuses তাদের Y chromosome এ নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন বহন করে, তাকে H-Y antigen বলা হয়। কিছু antigen পুরুষের বিষমকামী অভিযোজনের বিকাশকে উৎসাহ

বিস্তারিত পড়ুন

“উভলিঙ্গ মানব” কিছু কথা ও কিছু দাবি

পুরুষ এবং নারী এই দুই লিঙ্গের বাইরেও আরও লিঙ্গ আছে। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। জানবই বা কেমন করে? কেননা নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষদের আমরা কখনই স্বাভাবিক চোখে দেখি নি। এর কারণ ধর্ম এবং সংকীর্ণ চিন্তাধারার সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে এসেছে। আমাদেরকে শেখানো হয়েছে নারী এবং পুরুষের বাইরে কোন লিঙ্গ হতে পারে না। নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে আমরা সব সময় অস্বীকার করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে দামিয়ে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয় নি। এ রকমই একটি লিঙ্গ বৈচিত্র্য হচ্ছে উভলিঙ্গ। উভলিঙ্গ হচ্ছে একই সঙ্গে দুই লিঙ্গেরই সহাবস্থান। বাংলাদেশে উভলিঙ্গ মানবদের হিজরা বলে সম্মোধন করা হয়। উভলিঙ্গত্ব প্রকৃতিতে একেবারে বিরল কিছু নয়। আফ্রিকার নিশাচর স্ত্রী হায়েনাদের মধ্যে এ রকম উভলিঙ্গ দেখা যায় । বুশ বেবী, স্পাইডাই মাম্কি, উলি মা

বিস্তারিত পড়ুন

প্রাণী জগতে সমকামীতা বনাম সমকামী বিদ্বেষীদের অজ্ঞতা

সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সমূহ স্বীকৃতির পথে বড় একটি বাধা হচ্ছে সমকামীদের নিয়ে চরম অজ্ঞতা। বর্তমানে সমকামীদের নিয়ে কথা উঠলেই এ রকম কিছু অজ্ঞ ব্যক্তির মুখে শোনা যায় " প্রাণিরাও সমকামিতার মতো নিখৃষ্ট!কাজ করে না,অথচ মানুষ হয়ে সমকামিতা করে"। কুয়োর ব্যাঙ যেমন কুয়োকেই বিশাল কিছু ভাবে ঠিক এই ব্যক্তিগুলোও নিজেদের কয়েকটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ জ্ঞানকে বিশাল কিছু ভাবে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তথাকথিত শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে এ রকম অজ্ঞতা দেখা যায়। কারণ উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি সেকেলে মার্কা ধর্মীয় গ্রন্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনই ধর্মীয় ঘরানার যে এসব প্রতিষ্ঠানে যৌনতা নিয়ে যথেষ্ট সুষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এসব অজ্ঞতা যখন ব্যক্তি জীবনের গন্ডি পেড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা এবং অপরকে তা মানতে বাধ্য করা হয়

বিস্তারিত পড়ুন

সমকামী বিদ্বেষীদের কিছু মন্তব্য ও উত্তর

সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার নিয়ে কোন আলোচনা উঠলেই শুরু হয়ে যায় সমকামী বিদ্বেষীদের নানা কুযুক্তি ও অদ্ভুত প্রশ্ন। অনেক বার সে সব কুযুক্তি ও প্রশ্নের ব্যখ্যা ও উত্তর দেয়া হয়েছে এবং অনেকে এখনও দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞান তাদের অযৌক্তিক সমকামী বিদ্বেষকে রোগ হিসেবে চিহ্নত করেছে। এত যৌক্তিক উত্তর ও বৈজ্ঞানীক প্রমাণ দেয়ার পরও তারা তাদের সেই কুযুক্তি আর অদ্ভত প্রশ্নকে এখনও বহাল রেখেছে। তাই আজ ঠিক করেছি তাদের অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর যুক্তি কিংবা বিজ্ঞান দিয়ে দেব না বরং অদ্ভুত উত্তর দিয়েই তাদের প্রশ্ন ও কুযুক্তির মোকাবেলা করব। প্রশ্নসমূহ ও উত্তর নিচে দেয়া হলঃ ১. সমকামীদের স্বাধীনতা দিলে সবাই সমকামিতা করবে। উত্তরঃ সমকামীদের স্বাধীনতা দিলে আপনি কি সমকামিতা করবেন? যদি সমকামিতা করেন তাহলে সমকামীদের বৈধতার বিরোধীতা না করে বরং বৈধতার জন্য সমকামীদের সাপোর্ট করুন। আর যদি স্বাধীনতা দিলেও

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – দ্বিতীয় খন্ড

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ গণহত্যাঃ ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সে

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – প্রথম খন্ড

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থ্যাৎ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম উত্থানের সময় থেকেই সমকামীদের প্রতি খড়গহস্ত। যুগে যুগে সমকামীরা ধর্মের নিরিহ শিকারে পরিণত হয়ে উঠেছিল। ধর্ম কর্তৃক নানা নির্যাতন মুখে বুজে সহ্য করতে হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠিকে। কিন্তু গত শতাব্দি থেকে যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানবাধীকার নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হতে থাকে। বৈজ্ঞানীক গবেষণাগুলোর মাধ্যমে সমকামী জনগোষ্ঠির প্রতি প্রচলিত কুসংস্কার গুলো দূর হতে শুরু করেছে। যার ফলে সভ্য সমাজগুলো আজ সমকামী ব্যক্তিদের মাানবাধীকার রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে উঠেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইহুদী,খৃষ্টান এবং বর্তমানে হিন্দু ধর্ম কিছুটা নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে শুরু করলেও ইসলাম ধর্ম হিংস্রতার দিকে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। খৃষ্টান, ইহুদী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হলে বিপরীত

বিস্তারিত পড়ুন

Dead sea, a horrible myth

'ডেড সি! এক ভয়ঙ্কর মিথ' ডেড সি ( মৃত্য সাগর বা লূত সাগর) ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্মে একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। ডেড সি বা লূত সাগর নিয়ে ধর্ম গ্রন্থগুলোতে রয়েছে নানা কল্প কাহিনী। বিভিন্ন নদী, বিভিন্ন স্থান ও নানা জিনিস নিয়ে এরকম কল্পকাহিনী প্রচলিত থাকে। এগুলোকে আমরা মিথ বলি। অনেকেই তাদের আশে-পাশের নানা জিনিস নিয়ে এরকম প্রচলিত মিথ শুনে থাকতে পারেন। কেউ হয়ত এসব মিথ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আবার কেউ যুক্তি প্রমাণ না থাকায় এসব বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ওসব ছোট ছোট মিথে বিশ্বাস অবিশ্বাস হয়ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু ডেড সি বা লূত সাগর এমন একটি মিথ যা যুগের পর যুগ ধরে সমাজে গভীব প্রভাব ফেলতে পেরেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত প্রায় সবাই ডেড সি বলতে এক ভয়ঙ্কর ভূতুরে স্থান হিসেবে কল্পনা করতেই ভালবাসে। বিশেষ করে সমকামিতার প্রসঙ্গ উঠলে এই লূত সাগরের প্রসঙ

বিস্তারিত পড়ুন

যুগে যুগে যৌন সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মীয় নির্যাতনের ইতিহাস

ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল মানব মনের অজানা ভয় থেকে। মানব জাতীর উদ্ভবের পর অজানা অচেনা এই প্রকৃতির নানা বিপর্যয় মানব মনে একটা অলৈকিক ভয় সৃষ্টি করে। তাই এই সব বিপর্যয় ও প্রকৃতির নানা জিনিসের শক্তি দেখে তা থেকে বাঁচার জন্য এবং প্রকৃতিকে শান্ত রাখার চেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন বস্তুর আরাধনা শুরু হয়। কখনও সূর্যের, চন্দ্রের, নদীর, বড় গাছপালার, বাতাসের, পাহাড়ের, বড় পশু-পাখিসহ না জিনিসের পূজো আর্চনা করত এই ভেবে যে এগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যা আজও কিছুটা হলেও মানব সমাজে দেখা যায়। আজকে বৃহৎ পরিসরে ধর্মকে দেখা গেলেও সেই প্রাচীন সময়ে ধর্ম বা বিশ্বাসগুলো ছোট ছোট গোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আস্তে আস্তে যখন মানুষ সঙ্গবদ্ধ হতে শুরু করল তখন ধর্মের প্রসারও একটু বাড়তে থাকলে। আজকের ধর্ম আর সেই সময়ের ধর্মের মধ্যে ছিল বিশাল ফারাক। তখন ধর্ম সামান্য কিছু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ক

বিস্তারিত পড়ুন