ফতোয়াবাজিঃ- শেষ পর্ব

আজকের এই পর্বে আমারা ইসলামি মিথ্যাচার তুলে ধরব। মোল্লারা নিজদেরকে রক্ষার জন্য কত পাল্টিবাজ হতে পারে তা আজকের পর্বে ফতোয়ার কিতাব থেকে তুলে ধরছি:- ১. কেউ কসম করে বলল সে রুটি খাবে না। তারপর সে রুটি শুকিয়ে গুড়া করে তাতে পানি মিশিয়ে পান করলে তার কমস ভঙ্গ হবে না। কিন্ত রুটি যদি পানিতে ভিজিয়ে খায় তবে কসম ভঙ্গ হবে। ( ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ই ফা বা, পৃষ্ঠা ২২৬) মন্তব্যঃ মোল্লারা নিজেদের মগজে যে কি রকম পাল্টিবাজ জ্ঞান ধারণ করে এটা তার উদাহরণ মাত্র। ২. কোন ব্যক্তি কসম করল  যে সে তরমুজ খাবে না।  অতপর ছোট কাচা তরমুজ ভক্ষণ করল তাহলে ফকিহদের মতে কসম ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ২২৮) মন্তব্যঃ কাচা তরমুজ কিন্তু তরমুজ নয়, এটা মোল্লাতান্ত্রিক বিজ্ঞান। ৩. কেউ তার স্ত্রীকে বলল, আজ আমি যদি তোমাকে প্রহার না করি তবে তুমি ত্বলাক। এরপর স্বামী তাকে মারতে চাইলে তখন মহিলা বলল, তোমার শরীরের কোন অঙ্গ আমার ক

বিস্তারিত পড়ুন

ফতোয়াবাজি ২য় পর্ব

৯. কেউ যদি তার স্ত্রীদেরকে সম্মোধন করে বলে, তোমাদের যার জননেন্দ্রিয় অধিক প্রশস্ত হবে তাকে ত্বালাক। তাহলে তাদের মধ্যে যে হালকা পাতলা তার উপর ত্বালাক পতিত হবে।( আলমগিরি) মন্তব্যঃ হুজুরদের হালি হালি বউ থাকলে থাকলে যা দশা হয় আর কি। ১০. একজন ব্যক্তিকে তার স্ত্রী মদ পান করার কারণে ভৎসনা করল। অতপর সে বলল আমি যদি স্থায়ীভাবে মদ পান ছেড়ে দেই তবে তুমি ত্বালাক।( আলমগিরি পৃষ্ঠা ৪৪৬) মন্তব্যঃ স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে মনে করলে তার কাছে উপদেশ গ্রহণ কখনই মেনে নিতে পারবে না মোমিন সমাজ এটাই প্রমাণিত। ১১. কোন এক মহিলা ঘরের কামড়ায় বসে কাঁদছিল। তখন তার স্বামী তার শ্বশুরকে বলল যদি আপনার কন্য এ কামরা থেকে বের হয়ে অন্যত্র গিয়ে না কাঁদে তবে সে ত্বালাক। তারপর তার স্ত্রী অন্য কামরায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্না যদি কেউ শুনতে পায় তবে সে ত্বালাক। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৫৫) মন্তব্যঃ মুমিনীয় স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা ধামাচা

বিস্তারিত পড়ুন

নির্বাচনী ইশতেহারে যৌন সংখ্যালঘুদের জায়গা হবে কি?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই খুব শীঘ্রই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে রাজনৈতিক দলগুলো। এই ইশতেহারে জনগণের উদ্দেশ্যে নানা প্রতিশ্রুতি দেন রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও নির্বাচনে জয় লাভ করার পরে এই সব ইশতেহার তারা বেমালুম ভুলে যান। তবুও এই ইশতেহার জনগণের জন্য কিছুটা প্রাপ্তিই বলা চলে। কিন্তু এই সামান্য প্রাপ্তিটুকুও জুটে নি বাঙালী যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য। মৌলবাদীদের ভয়ে কিংবা নিজেদের সংকীর্ণ চিন্তাধারার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলই যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আগত নির্বাচনী ইশতেহার উপলক্ষে যৌন সংখ্যালঘুদের নিয়ে কোন রকম প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো ধর্মবাদী দলগুলো ক্ষমতায় আসলে যৌন সংখ্যালঘুদের উপরে

বিস্তারিত পড়ুন

ফতোয়াবাজি ১ম পর্ব

মুসলিমদের সবচেয়ে বৃহৎ শাখা হানাফী মাজহাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়ার কিতাব হচ্ছে ''ফতোয়ায়ে আলমগীরী''। সারা বিশ্বের চেয়ে ভারতবর্ষে এই কিতাবের মর্যাদা দুই পা এগিয়েই। এই মর্যাদাবান কিতাবের কিছু হাস্য ও রস্যময় কিছু ফতোয়া তুলে ধরছি। যা সকলের আনন্দের খোড়াক হবে বলে আশা করছি। তবে কেউ অনুভূতিতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তী হলে আমার করার কিছুই নেই।কারণ সত্য একটু নির্মমই হয়। প্রথম পর্ব ১.যদি কেউ তার চার স্ত্রীর কোন একজনকে তিন তালাক প্রদান করে, অতপর কাকে তালাক দিয়েছে এ ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে এবং কেউ তালাকপ্রাপ্তা স্বীকার না করে তবে ঐ স্বামী তার কোন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে না। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২৭৬ পৃষ্ঠা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা) এতগুলো বিবি আর বিবাহ করার ব্যবসা শুরু করলে তো কাকে তালাক দিলো সেটা মনে না থাকাই স্বাভাবিক। ২.কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে যদি আমি তোমাকে তালাক না দেই তবে তুমি তাল

বিস্তারিত পড়ুন

পুরুষ হয়ে উঠতে পারি নি বলে

বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে শিশু জন্ম নেয়া এক দারুণ ব্যপার বটে। কারণ সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে। হ্যা, জানার আগ্রহটা দোষনীয় নয়। তবে গর্ভবতী মহিলার শাশুড়ির একটা আবেদন থাকে ছেলের বৌ এর প্রতি যেন বাচ্চাটা ছেলেই হয়। বাচ্চাটা ছেলে হলে আনন্দ করে আযান দেয়া হয়,পুরো মহল্লায় চলে মিষ্টি বিতরণ। কিন্তু মেয়ে বাচ্চা হলে  মুখ হয়ে ওঠে আষাঢ়ের কালো মেঘ। বাড়ির মুরুব্বিদের মুখে শোনা যায় কষ্টের অনুভূতি জড়িত কথা, ” জন্ম মৃত্য আল্লাহ্ পাকের হাতে, তার ইচ্ছা তো মেনে নিতেই হবে”। অনেক পরিবারে তো স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয় শুধু মাত্র মেয়ে শিশু জন্ম দেয়ার কারণে। আজকাল শহরে হয়ত এটা কমেছে কিন্তু গ্রামে কিন্তু কমার বদলে বেড়েছে। সন্তান জন্মানোর পর সমাজ তাদের আচরণ নির্ধারণ করে দিতে আসে। পুরুষকে হতে হবে বীর আর মেয়েদের হতে হবে লজ্জাবতী। পুরুষ যা ইচ্চা করে বেড়াবে আর মেয়েকে হতে হবে

বিস্তারিত পড়ুন

অপরাধ, স্বাধীনতা এবং সমকামিতা

আমাদের সমাজে সমকামীদের অস্তিত্ব নতুন কিছু নয়। হ্যা, এটা ঠিক যে বিশাল একটা সময় ধরে সমকামীদের আত্মগোপন করে রাখতে হয়েছে নিজেদের যৌন প্রবৃত্তিকে। কেউ কোনভাবে প্রকাশিত হয়ে গেলে পেতে হয়েছে নির্মম শাস্তি। আমাদের পরিচিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিকেই শাস্তি পেতে হয়েছে নিজের যৌন প্রবৃত্তির কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে সমকামীদের শুনতে হয়েছে নানা বাজে তকমা। এখন আস্তে আস্তে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হচ্ছে। ফলে সমস্ত যৌন সংখ্যালঘু মানুষরা তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে। এই জানান দিতে গিয়ে সেকেলে চিন্তাধার কিছু বিরুদ্ধবাদীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজকাল সমকামিতা নিয়ে যারা সামন্যতম পড়াশুনা করেছেন তাদের মুখে সমকামীরা বিকৃত মস্তিস্কের, আধুনিকতার তৈরী, প্রকৃতি বিরুদ্ধ, প্রাণী জগতে সমকামিতা নেই, এ’রকম মন্তব্যগুলো আর তেমন শোনা যায় না। কারণ সমকামীরা যে সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক এ নিয়ে অনেক গবেষণার প্রতিবেদন বের হ

বিস্তারিত পড়ুন

“উভলিঙ্গ মানব” কিছু কথা ও কিছু দাবি

পুরুষ এবং নারী এই দুই লিঙ্গের বাইরেও আরও লিঙ্গ আছে। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। জানবই বা কেমন করে? কেননা নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষদের আমরা কখনই স্বাভাবিক চোখে দেখি নি। এর কারণ ধর্ম এবং সংকীর্ণ চিন্তাধারার সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে এসেছে। আমাদেরকে শেখানো হয়েছে নারী এবং পুরুষের বাইরে কোন লিঙ্গ হতে পারে না। নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে আমরা সব সময় অস্বীকার করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে দামিয়ে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয় নি। এ রকমই একটি লিঙ্গ বৈচিত্র্য হচ্ছে উভলিঙ্গ। উভলিঙ্গ হচ্ছে একই সঙ্গে দুই লিঙ্গেরই সহাবস্থান। বাংলাদেশে উভলিঙ্গ মানবদের হিজরা বলে সম্মোধন করা হয়। উভলিঙ্গত্ব প্রকৃতিতে একেবারে বিরল কিছু নয়। আফ্রিকার নিশাচর স্ত্রী হায়েনাদের মধ্যে এ রকম উভলিঙ্গ দেখা যায় । বুশ বেবী, স্পাইডাই মাম্কি, উলি মা

বিস্তারিত পড়ুন

সমকামী বিদ্বেষীদের কিছু মন্তব্য ও উত্তর

সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার নিয়ে কোন আলোচনা উঠলেই শুরু হয়ে যায় সমকামী বিদ্বেষীদের নানা কুযুক্তি ও অদ্ভুত প্রশ্ন। অনেক বার সে সব কুযুক্তি ও প্রশ্নের ব্যখ্যা ও উত্তর দেয়া হয়েছে এবং অনেকে এখনও দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞান তাদের অযৌক্তিক সমকামী বিদ্বেষকে রোগ হিসেবে চিহ্নত করেছে। এত যৌক্তিক উত্তর ও বৈজ্ঞানীক প্রমাণ দেয়ার পরও তারা তাদের সেই কুযুক্তি আর অদ্ভত প্রশ্নকে এখনও বহাল রেখেছে। তাই আজ ঠিক করেছি তাদের অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর যুক্তি কিংবা বিজ্ঞান দিয়ে দেব না বরং অদ্ভুত উত্তর দিয়েই তাদের প্রশ্ন ও কুযুক্তির মোকাবেলা করব। প্রশ্নসমূহ ও উত্তর নিচে দেয়া হলঃ ১. সমকামীদের স্বাধীনতা দিলে সবাই সমকামিতা করবে। উত্তরঃ সমকামীদের স্বাধীনতা দিলে আপনি কি সমকামিতা করবেন? যদি সমকামিতা করেন তাহলে সমকামীদের বৈধতার বিরোধীতা না করে বরং বৈধতার জন্য সমকামীদের সাপোর্ট করুন। আর যদি স্বাধীনতা দিলেও

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – দ্বিতীয় খন্ড

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ গণহত্যাঃ ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সে

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – প্রথম খন্ড

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থ্যাৎ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম উত্থানের সময় থেকেই সমকামীদের প্রতি খড়গহস্ত। যুগে যুগে সমকামীরা ধর্মের নিরিহ শিকারে পরিণত হয়ে উঠেছিল। ধর্ম কর্তৃক নানা নির্যাতন মুখে বুজে সহ্য করতে হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠিকে। কিন্তু গত শতাব্দি থেকে যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানবাধীকার নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হতে থাকে। বৈজ্ঞানীক গবেষণাগুলোর মাধ্যমে সমকামী জনগোষ্ঠির প্রতি প্রচলিত কুসংস্কার গুলো দূর হতে শুরু করেছে। যার ফলে সভ্য সমাজগুলো আজ সমকামী ব্যক্তিদের মাানবাধীকার রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে উঠেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইহুদী,খৃষ্টান এবং বর্তমানে হিন্দু ধর্ম কিছুটা নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে শুরু করলেও ইসলাম ধর্ম হিংস্রতার দিকে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। খৃষ্টান, ইহুদী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হলে বিপরীত

বিস্তারিত পড়ুন